পেটের গ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায়

পেটের গ্যাসের সমস্যার সমাধানের জন্য অনেক ঘরোয়া উপায় রয়েছে, যা সহজেই বাসায় তৈরি করে খাওয়া যায়। এগুলো কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে তৈরি করতে হয়, তা জানলে আপনি খুব সহজেই গ্যাসের সমস্যার সমাধান পাবে। 

পেটের গ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায়

পেটের গ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায়
পেটের গ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায়

১. আদা কেন গ্যাস কমায় এবং কিভাবে তৈরি করতে হয়?

আদা প্রাকৃতিকভাবেই পেটের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। এর মধ্যে বিশেষ কিছু উপাদান রয়েছে, যা হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। যখন আমাদের খাবার ঠিকমতো হজম হয় না, তখন পেটে গ্যাস জমে যায়। আদা এই গ্যাসকে ভেঙে দিতে সাহায্য করে এবং পেট ফাঁপার অস্বস্তি দূর করে।

কিভাবে তৈরি করবে:

  • এক টুকরো আদা নিয়ে সেটি ভালোভাবে ধুয়ে ছোট ছোট টুকরো করে নাও।
  • এবার এক কাপ পানি ফুটিয়ে নাও।
  • ফুটন্ত পানিতে আদার টুকরোগুলো দিয়ে ৫-১০ মিনিট রেখে দাও।
  • এরপর সেই পানি ঠাণ্ডা হওয়ার জন্য একটু অপেক্ষা করো এবং পরে তা পান করো।

এটা দিনে ২-৩ বার খেতে পারো। এতে তোমার পেটের গ্যাসের সমস্যা ধীরে ধীরে কমে যাবে।

২. জিরা কেন গ্যাস কমায় এবং কিভাবে তৈরি করতে হয়?

জিরার মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা পাকস্থলীতে হজমে সাহায্য করে। এটি খাবারকে দ্রুত হজম করিয়ে পেটে গ্যাসের জমা বন্ধ করে। এটি পেটের পেশীগুলিকে শান্ত করে এবং হজমের গতি বাড়ায়, ফলে পেটে গ্যাস জমতে পারে না।

কিভাবে তৈরি করবে:

  • এক চামচ জিরা নাও।
  • এবার এক গ্লাস পানি ফুটাতে দাও।
  • পানি ফুটে উঠলে জিরাগুলো পানিতে দিয়ে ৫ মিনিট পর্যন্ত ভালোভাবে ফুটাতে থাকো।
  • তারপর সেই পানি ঠাণ্ডা হওয়ার জন্য রেখে দাও।
  • ঠাণ্ডা হলে এটি পান করো।

এই পানি প্রতিদিন একবার বা দু’বার খাওয়া যেতে পারে। গ্যাসের সমস্যা দ্রুত কমে যাবে।

৩. লেবুর রস কেন গ্যাস কমায় এবং কিভাবে তৈরি করতে হয়?

লেবুর মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যাসিড, যা আমাদের পাকস্থলীতে থাকা অতিরিক্ত গ্যাস দূর করতে সাহায্য করে। এটি খাবার হজমে সহায়ক এবং পেটের মধ্যে ফাঁপাভাব কমিয়ে দেয়। এছাড়াও, লেবু শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে, যা হজমে বাধা দেয়।

কিভাবে তৈরি করবে:

  • এক টুকরো লেবু নিয়ে সেটি কেটে নাও।
  • এবার এক গ্লাস কুসুম গরম পানি নাও।
  • কাটা লেবু থেকে এক চামচ রস বের করে সেই গরম পানিতে মেশাও।
  • ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে এটি সকালে খালি পেটে পান করতে পারো।

এই মিশ্রণ গ্যাসের সমস্যা দূর করতে খুব ভালো কাজ করে এবং এটি সহজেই ঘরে তৈরি করা যায়।

৪. এলাচ কেন গ্যাস কমায় এবং কিভাবে তৈরি করতে হয়?

এলাচ একটি প্রাকৃতিক মসলা, যা হজমের জন্য খুব উপকারী। এটি পাকস্থলীতে জমা হওয়া গ্যাস ভাঙতে সাহায্য করে এবং পেটে থাকা বাতাস বেরিয়ে আসতে সহায়তা করে। এ কারণে এলাচ খেলে পেটে ফাঁপাভাব কমে।

কিভাবে তৈরি করবে:

  • একটি বা দুটি এলাচ নাও।
  • এরপর এটি ভালোভাবে চিবিয়ে খাও।
  • অথবা, তুমি চাইলে এক কাপ চায়ে এলাচ যোগ করে সেটি পান করতে পারো।

এলাচ চিবিয়ে খাওয়া খুব সহজ একটি উপায়, যা গ্যাস দ্রুত দূর করতে সাহায্য করে।

৫. পুদিনা পাতা কেন গ্যাস কমায় এবং কিভাবে তৈরি করতে হয়?

পুদিনা পাতায় রয়েছে প্রাকৃতিক তেল, যা পাকস্থলীর পেশীগুলিকে শান্ত করে এবং হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে। এটি গ্যাস কমাতে সহায়ক এবং পেটে থাকা অস্বস্তি দূর করে। পুদিনা পাতা শীতলভাব দেয় এবং হজমের সমস্যা কমায়।

কিভাবে তৈরি করবে:

  • কিছু পুদিনা পাতা সংগ্রহ করো।
  • এবার পুদিনা পাতা ভালোভাবে ধুয়ে নাও।
  • সরাসরি পুদিনা পাতা চিবিয়ে খেতে পারো, অথবা চায়ে পুদিনা পাতা মিশিয়ে পান করতে পারো।

এছাড়া, পুদিনা পাতার রস করে সেটাও পান করতে পারো। প্রতিদিন একবার খাওয়া উচিত।

৬. তুলসী পাতা কেন গ্যাস কমায় এবং কিভাবে তৈরি করতে হয়?

তুলসী পাতা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে। এর মধ্যে রয়েছে প্রদাহনাশক উপাদান, যা পাকস্থলীর ফোলাভাব এবং গ্যাসের সমস্যা দূর করে। এটি প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করে।

কিভাবে তৈরি করবে:

  • ৪-৫টি তুলসী পাতা নাও।
  • ভালোভাবে ধুয়ে নিয়ে সরাসরি চিবিয়ে খাও।
  • চাইলে তুলসী পাতা দিয়ে চা তৈরি করেও খেতে পারো।

তুলসী পাতার রস হজম ভালো রাখে এবং গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। এগুলো ঘরে থাকা উপাদান দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় এবং নিয়মিত ব্যবহার করলে গ্যাসের সমস্যা দূর হয়।

 পেটের গ্যাস দূর করার অতিরিক্ত টিপস:

 নিচের পদ্ধতি গুলো অনুসরণ করে খাবার গ্রহণ করুন, তাহলে আপনার পেটে গ্যাস জমেবে না।

  • খাবার খাওয়ার সময় ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান।
  • তেল-চর্বিযুক্ত খাবার কম খান।
  • প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।
  • শারীরিক পরিশ্রম করুন এবং নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করুন।

এই ঘরোয়া উপায়গুলো গ্যাসের সমস্যা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর। তবে, যদি সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা বাড়তে থাকে, তবে অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

Scroll to Top