জন্ডিস একটি সাধারণ লিভারের রোগ। এটি চোখ এবং ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। জন্ডিস রোগীর খাবার তালিকা নির্ধারণ করতে হলে হালকা, সহজপাচ্য এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নিচে জন্ডিস রোগীর জন্য খাবারের বিস্তারিত তালিকা দেয়া হলো, যা খাওয়া উচিত এবং যা এড়িয়ে চলা উচিত।
যা খাওয়া উচিত: জন্ডিস রোগীর খাবার তালিকা
জন্ডিস রোগীর খাবার তালিকায় থাকা নিম্নত্ব খাবার গুলো খাওয়া উচিত

১. পানি এবং তরল পদার্থ
- পানি: পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত, কারণ এটি দেহ থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে।
- ফল ও সবজির রস: বিশেষ করে টাটকা আপেল, গাজর, বিট, পেঁপে এবং কমলার রস পান করা ভালো।
- নারিকেলের পানি: ডিহাইড্রেশন রোধ করে এবং ইলেক্ট্রোলাইট সরবরাহ করে।
- লেবুর শরবত: এটি শরীরের পিএইচ ভারসাম্য ঠিক রাখে এবং লিভার পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
২. হালকা এবং সহজপাচ্য খাবার
- ভাত: সিদ্ধ বা খিচুড়ি, কারণ এটি সহজে হজম হয়।
- মুগ ডাল: মুগ ডালের ঝোল সহজে হজমযোগ্য এবং পুষ্টিকর।
- উপকরণহীন রুটি (আটা বা ময়দা): সাদা রুটির পরিবর্তে লাল আটা বা সঠিকভাবে প্রস্তুত করা ময়দার রুটি খাওয়া ভালো।
- সবজি: বাঁধাকপি, পালং শাক, লাউ, ঢেঁড়স, কুমড়া ও অন্যান্য সবুজ শাকসবজি, এগুলি সহজপাচ্য এবং পুষ্টিকর।
- ফলমূল: পেঁপে, আপেল, নাশপাতি, বেদানা, আঙুর, কলা এবং তরমুজ এগুলি সহজে হজম হয় এবং পুষ্টিকর।
৩. প্রোটিন এবং ফ্যাটের হালকা উৎস
- ডাল এবং শাকসবজি: যেমন মুগ ডাল, ছোলা এবং অন্যান্য শাকসবজি যা কম ফ্যাটযুক্ত এবং উচ্চ প্রোটিনের উৎস।
- বাদাম: বাদাম ও আখরোট কম পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।
- কম চর্বিযুক্ত দুধ এবং দই: দুধের চেয়ে দই ভালো, কারণ এটি সহজে হজম হয় এবং লিভারের জন্য সহায়ক।
৪. হার্বাল চা এবং ভেষজ পদার্থ
- গ্রিন টি: এন্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ এবং লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
- হলুদ এবং আদা: এরা প্রাকৃতিক এন্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং লিভারকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
যে খাবার এড়িয়ে চলা উচিত
জন্ডিস রোগীর খাবার তালিকায় এই খাবারগুলো বাদ দেওয়া উচিত। কারণ এতে জন্ডিস বৃদ্ধি পাবে এবং লিভারের সমস্যা হবে

১. ফ্যাটযুক্ত এবং তৈলাক্ত খাবার
- ভাজা এবং মসলাযুক্ত খাবার: পেঁয়াজ ভাজি,পরোটা, পুরি, বেগুনি, চপ, সামোসা ইত্যাদি এড়িয়ে চলা উচিত।
- ঘি এবং মাখন: লিভারের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
- ফাস্ট ফুড: যেমন পিজা, বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এড়িয়ে চলা উচিত।
- গভীর তেলে ভাজা খাবার: এগুলি লিভারকে বেশি চাপ দেয়।
২. প্রক্রিয়াজাত এবং সংরক্ষিত খাবার
- কোল্ড ড্রিংকস এবং সফট ড্রিংকস: কার্বনেটেড পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত কারণ এতে চিনি এবং রাসায়নিক পদার্থ থাকে।
- প্যাকেটজাত স্ন্যাক্স: যেমন চিপস, বিস্কুট, কেক, এগুলোতে বেশি ফ্যাট এবং প্রিজারভেটিভ থাকে।
- ক্যানড এবং প্রসেসড খাবার: এতে থাকা প্রিজারভেটিভ লিভারের জন্য ক্ষতিকর।
- আচার: এতে উচ্চ পরিমাণে লবণ এবং তেল থাকে যা লিভারের জন্য ক্ষতিকর।
৩. উচ্চ প্রোটিন এবং চর্বিযুক্ত মাংস
- গরু এবং খাসির মাংস: এড়িয়ে চলা উচিত কারণ এটি লিভারের উপর চাপ ফেলে।
- ব্রয়লার মুরগি: প্রাকৃতিক মুরগির তুলনায় এতে ফ্যাট বেশি থাকে।
৪. অতিরিক্ত শর্করা এবং মিষ্টি
- মিষ্টি: চিনি এবং মিষ্টির পরিমাণ সীমিত রাখা উচিত।
- চকলেট এবং মিষ্টিজাতীয় খাবার: এড়িয়ে চলা উচিত কারণ এতে চিনি বেশি থাকে এবং তা লিভারের জন্য ক্ষতিকর।
৫. অ্যালকোহল এবং ক্যাফেইন
- অ্যালকোহল: লিভার ক্ষতিগ্রস্ত করার অন্যতম প্রধান কারণ।
- চা এবং কফি: অতিরিক্ত ক্যাফেইন লিভারের উপর চাপ সৃষ্টি করে।
একবারে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প পরিমাণে এবং বারবার খাওয়া উচিত। খাবার সিদ্ধ বা স্টিম করে রান্না করা উচিত, যেন তেলে ভাজার প্রয়োজন না হয়।এই খাদ্য তালিকা মেনে চললে জন্ডিসের রোগী দ্রুত সেরে উঠবে এবং লিভারের কার্যক্ষমতা পুনরায় বৃদ্ধি পাবে।
আরো পড়ুন: উচ্চতা অনুযায়ী ওজন চার্ট: মেয়ে ও ছেলেদের আদর্শ চার্ট