গর্ভাবস্থার সময় শিশুর বৃদ্ধি ও পরিবর্তনগুলি এক একটি পর্যায়ে ঘটে এবং প্রতিটি স্তরে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকে। এই আর্টিকেলে সপ্তাহ অনুযায়ী গর্ভাবস্থা ছবি ও শিশুর বৃদ্ধি- বিকাশ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।
গর্ভাবস্থাকে সাধারণত তিনটি ত্রৈমাসিকে ভাগ করা হয়, যা প্রতিটি স্তরে ভ্রূণ থেকে শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে এবং মায়ের শরীরে বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। এই ত্রৈমাসিকগুলো হলো:
- প্রথম ত্রৈমাসিক (১-১২ সপ্তাহ):
- দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (১৩-২৮ সপ্তাহ):
- তৃতীয় ত্রৈমাসিক (২৯-৪০ সপ্তাহ):
এই তিনটি ত্রৈমাসিক গর্ভাবস্থার বিভিন্ন পর্যায়কে নির্দেশ করে, যা মায়ের এবং শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিক (১ম থেকে ১২তম সপ্তাহ)
প্রথম ত্রৈমাসিক গর্ভাবস্থার শুরু, যখন শিশুর বিকাশের মূল ভিত্তি তৈরি হয়। এই সময় মায়ের শরীরে হরমোনের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে যা নতুন লক্ষণ দেখা দেয়।
১ম সপ্তাহ (মাসিক চক্রের শেষ থেকে শুরু)
- এ সপ্তাহে গর্ভধারণ আসলে শুরু হয়নি। এটি মায়ের শেষ মাসিক চক্রের সময়। মায়ের শরীর একটি নতুন ডিম্বাণুর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা পরবর্তীতে নিষিক্ত হয়ে শিশুর জন্মের সূচনা করবে।
২য় সপ্তাহ শিশুর বৃদ্ধি- বিকাশ (ডিম্বাণুর প্রস্তুতি)
- মায়ের শরীরে ডিম্বাণু তৈরি হয়ে যায় এবং ডিম্বাশয় থেকে তা জরায়ুতে চলে আসে। যদি শুক্রাণুর সাথে এই ডিম্বাণুর মিলন ঘটে, তবে গর্ভধারণ শুরু হবে।
৩য় শিশুর বৃদ্ধি- বিকাশ (নিষিক্তকরণ)
- এই সপ্তাহে, শুক্রাণু ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয় এবং নিষিক্ত হয়ে একটি ছোট জীবের জন্ম হয়, যাকে “জাইগোট” বলা হয়।
- এটি দ্রুত কোষে বিভক্ত হয়ে জরায়ুর প্রাচীরে স্থাপন হওয়ার জন্য যাত্রা শুরু করে।
৪য় শিশুর বৃদ্ধি- বিকাশ (জরায়ুতে স্থাপন)
- নিষিক্ত ডিম্বাণু (ব্লাস্টোসিস্ট) এখন মায়ের জরায়ুর প্রাচীরে স্থাপন হয়। এর ফলে শরীরে হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, এবং মাসিক বন্ধ হয়ে যায়।
- এই পর্যায়ে জরায়ুর দেয়ালে ছোট ছোট কোষের স্তর তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে প্লাসেন্টা বা পরিপূর্ণ পুষ্টির কেন্দ্র তৈরি করবে। এটি শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ করে।
৫ম শিশুর বৃদ্ধি- বিকাশ(হৃদস্পন্দন শুরু)
- এই সময়ে শিশুর আকার খুবই ক্ষুদ্র, কিন্তু জরায়ুর দেয়ালে তার অবস্থান শক্ত হয়ে যায়।
- শিশুর প্রাথমিক হৃদপিণ্ড তৈরি হতে থাকে এবং এটি ধুকপুক করতে শুরু করে, যদিও এটি বাইরে থেকে শোনা যায় না।
৬ষ্ঠ শিশুর বৃদ্ধি- বিকাশ(অঙ্গের বিকাশ শুরু)
- এই সময়ে, শিশুর হাত-পা, মাথা, চোখ ও কানের ছাঁচ তৈরি শুরু হয়। শিশুর আকার প্রায় ৪-৫ মিলিমিটার, যেটি দেখতে অনেকটা মটরের বীজের মতো।
৭ম শিশুর বৃদ্ধি- বিকাশ(মস্তিষ্ক ও মুখমণ্ডলের বিকাশ)
- শিশুর মস্তিষ্ক দ্রুত বৃদ্ধি পায়, এবং মুখমণ্ডল, নাক, ঠোঁটের আকার স্পষ্ট হতে শুরু করে।
- এই সময়ে শিশুর হাত ও পায়ের আঙ্গুল তৈরি হয়, যদিও এখনো এটি খুব সূক্ষ্ম।
৮ম শিশুর বৃদ্ধি- বিকাশ(দেহের গঠন স্পষ্ট হওয়া)
- শিশুর মাথা এখন আরও বড় এবং পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। ত্বক অত্যন্ত পাতলা থাকে এবং তার ভেতরে অনেক ছোট ছোট শিরা দৃশ্যমান হয়।
- শিশু এখন প্রায় ১.৬ সেমি লম্বা, এবং দেখতে অনেকটা ছোট চিংড়ির মতো।
৯ম শিশুর বৃদ্ধি- বিকাশ(দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিকাশ)
- শিশুর পা ও হাত আরও সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। চোখের পাতার অবয়ব দেখা যায়, এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।
- শিশুর আকার এখন প্রায় ২ সেমি এবং এটি দ্রুত বৃদ্ধির পথে রয়েছে।
১০ম শিশুর বৃদ্ধি- বিকাশ(অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্পূর্ণরূপে গঠন)
- শিশুর সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এই পর্যায়ে গঠন সম্পূর্ণ করে। হাত ও পায়ের আঙ্গুল পৃথক হয়ে আসে।
- শিশুর পেশী ও স্নায়ু তৈরি হয়, এবং এটি মায়ের পেটের ভিতরে নড়াচড়া শুরু করে, যদিও মা এটি এখনো অনুভব করতে পারেন না।
১১তম শিশুর বৃদ্ধি- বিকাশ(লিভার ও ফুসফুসের বিকাশ)
- এই সপ্তাহে শিশুর লিভার, কিডনি এবং ফুসফুস তাদের কার্যক্রম শুরু করে।
- শিশুর আকার প্রায় ৪ সেমি লম্বা হয় এবং এর ওজন প্রায় ১০-১২ গ্রাম হয়।
১২তম শিশুর বৃদ্ধি- বিকাশ(নড়াচড়া শুরু)
- শিশুর পেশী আরও শক্ত হয় এবং এটি নড়াচড়া শুরু করে। চোখের পাতাও খুলে-বন্ধ করতে পারে।
- এই পর্যায়ে শিশুর আকার প্রায় ৫.৫ সেমি এবং এর ত্বকের নিচে সামান্য চর্বি জমা হতে শুরু করে।
দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (১৩তম থেকে ২৬তম সপ্তাহ)
গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের সময়টি অনেক মায়ের জন্য একটু সহজ ও আনন্দদায়ক হয়। এই সময় শিশুর বৃদ্ধি খুব দ্রুত হয়, এবং শরীরের মূল অঙ্গগুলো দৃঢ়ভাবে গঠিত হয়। চলুন, প্রতিটি সপ্তাহের পর্যায়ক্রমে বিশদভাবে জেনে নেই:
১৩তম সপ্তাহ
- শিশুর আকৃতি: এ সময় শিশুর আকার প্রায় ৭-৮ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে এবং ওজন প্রায় ২০-২৫ গ্রাম।
- শারীরিক বিকাশ: শিশুর হাড় শক্ত হতে শুরু করে এবং ত্বকের নিচে সামান্য চর্বির স্তর জমা হয়, যা তাকে উষ্ণ রাখতে সাহায্য করবে।
- নড়াচড়া: এ পর্যায়ে শিশুর হাত ও পা একটু নাড়াচাড়া করতে পারে, যদিও এই নড়াচড়া এতই সূক্ষ্ম যে মা সাধারণত এটি অনুভব করেন না।
- অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিকাশ: শিশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আকার ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে; শিশুর মুখমণ্ডল, চোখ, কান, এবং হাত-পায়ের আঙুলের গঠন দৃশ্যমান হয়।
১৪তম সপ্তাহ
- শিশুর আকৃতি: এ সময় শিশুর আকার প্রায় ৮-৯ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ৩০-৩৫ গ্রাম।
- পেশী এবং হাড়: শিশুর পেশী ও হাড় দৃঢ় হতে থাকে। সে এখন একটু-আধটু মুখ নাড়াতে, এমনকি চুষতেও পারে।
- চুলের গঠন: শিশুর মাথায় এবং ভ্রুতে ছোট ছোট লোম গজাতে শুরু করে, যাকে Lanugo বলে।
- যোনির গঠন: মেয়েশিশুর ক্ষেত্রে যোনির প্রাথমিক গঠন শুরু হয়, যা ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ লিঙ্গের রূপ পাবে।
১৫তম সপ্তাহ
- শিশুর আকার: এ পর্যায়ে শিশুর আকার প্রায় ১০ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ৫০-৫৫ গ্রাম।
- নড়াচড়া: শিশুর শরীরের বিভিন্ন অংশ, যেমন হাত ও পা, নড়াচড়া করতে শুরু করে। সে আঙুল দিয়ে চুষতেও পারে। তবে এই নড়াচড়া এখনো মায়ের কাছে অনুভূত হয় না।
- অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পূর্ণতা: কিডনি কাজ করতে শুরু করে, এবং শিশু তার মূত্র নিঃসরণ করতে সক্ষম হয়। এটি অ্যামনিওটিক ফ্লুইডে মেশে এবং এটি শিশুর জন্য একটি সুরক্ষিত পরিবেশ হিসেবে কাজ করে।
- কানের বিকাশ: কানের গঠন প্রায় পূর্ণ হয়, যা পরে শিশুকে শুনতে সাহায্য করবে।
১৬তম সপ্তাহ
- শিশুর আকৃতি: শিশুর আকার এখন প্রায় ১১-১২ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ৮০-১০০ গ্রাম।
- হাড়ের দৃঢ়তা: শিশুর শরীরে হাড়গুলো আরও শক্ত হয়। তার পায়ের আঙুল এবং নখের গঠন শুরু হয়।
- শিশুর মুখের অভিব্যক্তি: শিশুর মুখে অভিব্যক্তি তৈরি হয়; সে মুখ বাঁকাতে, এমনকি হাসি দেওয়ার মতোও নড়াচড়া করতে পারে।
- লিঙ্গের স্পষ্টতা: এখন আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে শিশুর লিঙ্গ শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। ছেলে শিশুর ক্ষেত্রে লিঙ্গ স্পষ্ট হয় এবং মেয়েশিশুর ক্ষেত্রে ওভারির (ডিম্বাশয়) গঠন দেখা যায়।
১৭তম সপ্তাহ
- শিশুর আকার: এ সময় শিশুর আকার প্রায় ১২-১৪ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ১৪০-১৫০ গ্রাম।
- ত্বকের সূক্ষ্ম লোম: ত্বকের উপর সাদা লোম তৈরি হয়, যাকে Vernix Caseosa বলে। এটি শিশুর ত্বককে অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে রক্ষা করে।
- শিশুর নড়াচড়া: এ পর্যায়ে শিশুর নড়াচড়া আরও সুস্পষ্ট হয়, যদিও মা এখনও অনুভব করেন না।
- চর্বি জমা: শিশুর ত্বকের নিচে চর্বি জমতে থাকে, যা তার দেহকে শক্তিশালী রাখে এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়।
১৮তম সপ্তাহ
- শিশুর আকার: এখন শিশুর আকার প্রায় ১৪-১৫ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ২০০ গ্রাম।
- শ্রবণ ক্ষমতা: শিশুর কান পুরোপুরি গঠন পায়, এবং সে মায়ের শরীরের ভিতরের আওয়াজ, এমনকি মায়ের গলার আওয়াজ শুনতে শুরু করে।
- চোখের বিকাশ: শিশুর চোখে আলো প্রবেশের প্রতিক্রিয়া দেখা যায় এবং সে চোখের পাতা নাড়াতে পারে।
- অস্থি মজ্জা তৈরি: শিশুর হাড়ের গঠনে অস্থি মজ্জা তৈরি হয়, যা রক্ত কণিকা উৎপন্ন করে।
১৯তম সপ্তাহ
- শিশুর আকার: এ সময় শিশুর আকার প্রায় ১৫-১৬ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ২৪০-২৫০ গ্রাম।
- ত্বকের পরিপূর্ণতা: শিশুর ত্বক শক্ত হতে শুরু করে এবং সেই সাথে ত্বকের স্তরে ভাঁজ তৈরি হয়। এই ভাঁজ ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ ত্বকের রূপ পাবে।
- বাহ্যিক প্রতিরক্ষা: Vernix Caseosa নামের সাদা পদার্থ শিশুর ত্বকে জমা হয়। এটি ত্বককে রক্ষা করে, কারণ অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের মধ্যে অনেক সময় ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
- মস্তিষ্কের বিকাশ: মস্তিষ্কের বিকাশ খুব দ্রুত গতিতে চলে এবং এই সময়ে শিশুর অনুভূতি, যেমন ব্যথা, শোনা, স্পর্শ করা ইত্যাদি বোধ বৃদ্ধি পায়।
২০তম সপ্তাহ
- শিশুর আকার: এ সময় শিশুর আকার প্রায় ১৬ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ৩০০ গ্রাম।
- মায়ের অনুভূতি: এ পর্যায়ে মায়ের শরীরে শিশুর নড়াচড়া স্পষ্টভাবে অনুভব করা যায়। শিশুর নড়াচড়া মায়ের জন্য আনন্দদায়ক হতে পারে।
- চুল এবং নখের বৃদ্ধি: শিশুর মাথায় চুল বৃদ্ধি পায় এবং হাত ও পায়ের নখ প্রায় পূর্ণাঙ্গ আকারে বেড়ে যায়।
- কোষের উৎপাদন: শিশুর অস্থি মজ্জাতে সাদা রক্ত কণিকা তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে তার দেহে জীবাণু প্রতিরোধে সাহায্য করবে।
২১তম সপ্তাহ
- শিশুর আকার: শিশুর আকার প্রায় ২৬ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ৩৫০-৪০০ গ্রাম।
- ত্বকের স্পষ্টতা: শিশুর ত্বক পরিষ্কার হয় এবং এর নিচে রক্তনালী স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়।
- কোশ এবং পেশী বৃদ্ধি: শিশুর দেহের পেশী ও কোষ শক্তিশালী হয়, ফলে সে দ্রুত নড়াচড়া করতে পারে।
- চর্বি জমা: শিশুর শরীরে চর্বি জমা হতে থাকে, যা পরবর্তীতে তার ত্বক এবং শরীরের রঙ পরিবর্তনে সাহায্য করবে।
২২তম সপ্তাহ
- শিশুর আকার: এ সময় শিশুর আকার প্রায় ২৭-২৮ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ৪০০-৪৫০ গ্রাম।
- শ্রবণ ক্ষমতা: শিশুর শ্রবণ ক্ষমতা আরও উন্নত হয়, এবং সে মায়ের হৃদস্পন্দন এবং বাইরের কিছু শব্দ শুনতে সক্ষম হয়।
- মস্তিষ্কের দ্রুত বৃদ্ধি: এই সময় শিশুর মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা পরবর্তীতে তার স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তির উন্নতি করে।
- শ্বাস প্রশ্বাসের অনুশীলন: শিশুর ফুসফুসে বাতাস না থাকলেও সে শ্বাস প্রশ্বাসের অনুশীলন করে, যা জন্মের পর তার শ্বাস নিতে সাহায্য করবে।
২৩তম সপ্তাহ
- শিশুর আকার: শিশুর আকার প্রায় ২৯-৩০ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ৫০০-৫৫০ গ্রাম।
- চামড়ার পুরুত্ব: শিশুর ত্বক আরও শক্ত হয় এবং এর নিচে চর্বির স্তর জমতে থাকে।
- চোখের গঠন: শিশুর চোখে চোখের পাতার গঠন সম্পূর্ণ হয়। সে এখন চোখের পাতা নাড়াতে পারে।
- নিয়মিত নড়াচড়া: শিশুর নড়াচড়া আরও শক্তিশালী হয় এবং মায়ের কাছে তার নড়াচড়া আরও ভালোভাবে অনুভূত হয়।
২৪তম সপ্তাহ
- শিশুর আকার: এ সময় শিশুর আকার প্রায় ৩০-৩২ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ৬০০-৭০০ গ্রাম।
- ত্বকের পরিবর্তন: শিশুর ত্বক এখনও বেশ পাতলা, তবে এটি ক্রমশ পুরু হতে থাকে। শিশুর ত্বক সাদা পদার্থে (Vernix) আবৃত থাকে, যা ত্বককে সুরক্ষা দেয়।
- শ্রবণ ক্ষমতার উন্নতি: শিশুর শ্রবণ ক্ষমতা উন্নত হচ্ছে। সে মায়ের আওয়াজ এবং বাইরের শব্দ শুনতে পায় এবং এর প্রতি প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। অনেক মায়ের গায়ের আওয়াজ শুনলে শিশু প্রতিক্রিয়া জানায়।
- অঙ্গের কার্যক্রম: শিশুর শ্বাস প্রশ্বাসের কার্যক্রম এবং হার্টবিট নিয়মিত হয়। এ পর্যায়ে শিশুর হৃৎপিণ্ডের ছন্দ সচল থাকে এবং এটি বিভিন্ন প্রকারের আওয়াজ তৈরি করতে শুরু করে।
- শিশুর নড়াচড়া: শিশুর নড়াচড়া ক্রমশ বৃদ্ধি পায়, এবং মায়ের জন্য এটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
২৫তম সপ্তাহ
- শিশুর আকার: শিশুর আকার প্রায় ৩২-৩৪ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ৭৫০-৮৫০ গ্রাম।
- চর্বির জমা: শিশুর শরীরে চর্বি জমতে থাকে, যা তার শারীরিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। এর ফলে শিশু কিছুটা মোটা হয়ে যায়।
- মস্তিষ্কের গঠন: শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ অব্যাহত থাকে, এবং এটি স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর স্নায়ুতন্ত্র দ্রুত উন্নতি লাভ করছে।
- চোখের অবস্থান: শিশুর চোখের অবস্থা সোজা হয়, এবং সে আলো ও অন্ধকারের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে।
- হৃৎপিণ্ডের হার: শিশুর হৃৎপিণ্ডের হার বর্তমানে নিয়মিতভাবে ১২০ থেকে ১৬০ বিট প্রতি মিনিটে থাকে, যা শিশুর স্বাস্থ্য নিশ্চিত করে।
২৬তম সপ্তাহ
- শিশুর আকার: শিশুর আকার প্রায় ৩৪-৩৬ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ৯০০-১০০০ গ্রাম।
- শ্বাস-প্রশ্বাসের কার্যক্রম: শিশুর ফুসফুসের গঠন অব্যাহত থাকে, এবং সে গ্যাস (অক্সিজেন এবং কার্বন ডাই অক্সাইড) অদলবদল করার প্রক্রিয়া অনুশীলন করে।
- বুদ্ধির উন্নতি: শিশুর মস্তিষ্কের অনেক অংশ বিকশিত হচ্ছে, এবং এটি চিন্তা, শিখন এবং স্মৃতিশক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- জরায়ুর অভ্যন্তরীণ পরিবেশ: জরায়ুর অভ্যন্তরীণ পরিবেশে কিছু পরিবর্তন ঘটে, যা শিশুকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এটি ভবিষ্যতে শিশুর জন্য একটি সুরক্ষিত পরিবেশ তৈরি করে।
- আবহাওয়ার প্রতি প্রতিক্রিয়া: শিশুর শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বাড়তে থাকে। সে এখন মায়ের আবহাওয়া এবং শরীরের তাপমাত্রার প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম।
এভাবে, দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের বাকি সপ্তাহগুলোতে শিশুর দেহ এবং মস্তিষ্কের গঠন আরও পূর্ণাঙ্গ হতে থাকে, যা তাকে জন্মের জন্য প্রস্তুত করে।
তৃতীয় ত্রৈমাসিক (২৭তম থেকে ৪০তম সপ্তাহ)
তৃতীয় ত্রৈমাসিক গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়। এই সময় শিশুর শরীর ও মস্তিষ্ক পূর্ণতা লাভ করে এবং সে জন্মের জন্য প্রস্তুত হয়। শিশুর দেহে বড় ধরনের শারীরিক পরিবর্তন ঘটে, এবং এ সময়ে মা প্রায়ই শিশুর শক্তিশালী নড়াচড়া অনুভব করতে পারেন। চলুন, তৃতীয় ত্রৈমাসিকের প্রতিটি সপ্তাহের বিশদভাবে পর্যালোচনা করা যাক।
২৭তম সপ্তাহ
- শিশুর আকার: প্রায় ৩৪ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ৮০০-৯০০ গ্রাম।
- শ্বাস প্রশ্বাসের অনুশীলন: ফুসফুস দ্রুত উন্নত হয়, যদিও এ সময়ে শিশুর ফুসফুসে অ্যামনিওটিক ফ্লুইড প্রবাহিত থাকে। জন্মের পর সে যাতে শ্বাস নিতে পারে, তার জন্য শিশুর ফুসফুসে এভাবে অনুশীলন হয়।
- নড়াচড়া ও প্রতিক্রিয়া: শিশুর নড়াচড়া মায়ের জন্য আরও স্পষ্ট হয়। মায়ের গলার আওয়াজ বা বাইরে থেকে কোনো শব্দ শুনে শিশু নড়াচড়া করে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
- চোখের পাতা খোলা ও বন্ধ: শিশুর চোখের পাতা পুরোপুরি খোলা ও বন্ধ হতে পারে, এবং সে আলোর প্রতি প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম।
২৮তম সপ্তাহ
- শিশুর আকার: প্রায় ৩৫ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ১ কেজি।
- মস্তিষ্কের বিকাশ: এ সময় মস্তিষ্কের নিউরন ও স্নায়ু কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, যা তার ভবিষ্যৎ স্মৃতি ও চিন্তাশক্তি গঠনে ভূমিকা রাখে।
- শিশুর দৃষ্টিশক্তি: শিশুর দৃষ্টি সংক্রান্ত স্নায়ুগুলি সক্রিয় হয়, এবং সে এখন চোখের পাতা খুলে চারপাশের অন্ধকার বা আলো অনুভব করতে পারে।
- নড়াচড়ার সামঞ্জস্যতা: শিশুর নড়াচড়া আরও সংহত হয়; সে হাত ও পা বাড়িয়ে নড়াচড়া করতে পারে এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সাহায্যে পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
২৯তম সপ্তাহ
- শিশুর আকার: প্রায় ৩৬ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ১.১ কেজি।
- চর্বি জমা: ত্বকের নিচে চর্বির স্তর জমা হতে থাকে, যা শিশুকে গরম রাখতে সহায়তা করে। এই চর্বির স্তর শিশুর ওজন বাড়াতে সাহায্য করে এবং জন্মের পর তাকে শক্তি সরবরাহ করবে।
- অস্তি মজ্জা সক্রিয় হয়: শিশুর অস্থিমজ্জা পুরোপুরি কার্যকর হয়, যা রক্তকণিকা তৈরি করে এবং ভবিষ্যতে রক্ত সঞ্চালনে সহায়ক হবে।
- পরিপাকতন্ত্রের বিকাশ: শিশুর পরিপাকতন্ত্র কার্যকর হয়ে উঠতে থাকে এবং সে মায়ের অ্যামনিওটিক ফ্লুইড গিলে তা প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম হয়, যা পরিপাকতন্ত্রকে প্রশিক্ষিত করে।
৩০তম সপ্তাহ
- শিশুর আকার: প্রায় ৩৭ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ১.৩-১.৪ কেজি।
- শিশুর ত্বকের গঠন: ত্বক মসৃণ হতে শুরু করে, এবং শরীরে পর্যাপ্ত চর্বির স্তর জমা হয়, যা তাকে শক্তি দেয়।
- ফুসফুসের কার্যকারিতা: শিশুর ফুসফুসের ছোট বায়ুকোষ আলভিওলির সংখ্যা বাড়ে, যা তার ফুসফুসকে শ্বাস প্রশ্বাসের জন্য প্রস্তুত করে।
- পরিপূর্ণ নড়াচড়া: এ সময় শিশুর নড়াচড়া নিয়ন্ত্রিত ও শক্তিশালী হয়। মা প্রায়শই শিশুর লাথি ও পাঞ্চ অনুভব করতে পারেন।
৩১তম সপ্তাহ
- শিশুর আকার: প্রায় ৩৮ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ১.৫ কেজি।
- সেন্সরি বিকাশ: শিশুর সংবেদনশীল ক্ষমতা আরও উন্নত হয়। সে আলোর প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে এবং বাইরের জগতে শব্দের প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করতে পারে।
- চুল ও নখের বৃদ্ধি: শিশুর মাথায় ও ভ্রুতে চুলের পরিমাণ বাড়ে, এবং হাত ও পায়ের নখ বৃদ্ধি পায়।
- প্রতিরোধ ক্ষমতা: শিশুর ইমিউন সিস্টেম এখন এমনভাবে গঠিত হয়, যা তাকে জন্মের পর সাধারণ সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সক্ষম।
৩২তম সপ্তাহ
- শিশুর আকার: প্রায় ৩৯ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ১.৭-১.৮ কেজি।
- মস্তিষ্কের ভাঁজ: শিশুর মস্তিষ্কে ভাঁজ তৈরি হয়, যা তার চিন্তা ও সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষমতা গঠনে সাহায্য করবে।
- ফুসফুস প্রস্তুতি: ফুসফুস প্রায় পূর্ণতা লাভ করে এবং এখন বাইরের পরিবেশে শ্বাস নেওয়ার জন্য প্রস্তুত।
- ত্বকের চর্বির স্তর: চর্বি জমতে থাকে, যা শিশুর ত্বককে সাদা ও মসৃণ করে।
৩৩তম সপ্তাহ
- শিশুর আকার: প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ২ কেজি।
- চর্ম এবং কঙ্কাল গঠন: শিশুর হাড় শক্ত হয়, তবে মাথার হাড় কিছুটা নরম থাকে যাতে জন্মের সময় শিশুর মাথা প্রসারিত হয়ে বের হতে পারে।
- নির্দিষ্ট অবস্থান: শিশুর মাথা নিচের দিকে থাকে (যদি মাথা নিচে নাও থাকে, তবে চিকিৎসক পরামর্শ দেবেন)।
- ঘুম এবং জাগরণের রুটিন: শিশুর ঘুম এবং জাগরণের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি থাকে, এবং সে নিয়মিত চোখ বন্ধ ও খোলা করে।
৩৪তম সপ্তাহ
- শিশুর আকার: প্রায় ৪১ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ২.২-২.৩ কেজি।
- নিউরাল উন্নতি: মস্তিষ্কের বিকাশ দ্রুত চলে এবং নিউরাল কানেকশনগুলির সংখ্যা বাড়তে থাকে, যা তার স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ শক্তি বৃদ্ধি করে।
- নাড়ির কার্যকারিতা: শিশুর নাড়ি পুরোপুরি কাজ করে, যা শিশুকে প্রসবকালীন এবং জন্মের পরও সঠিকভাবে রক্ত সরবরাহ করে।
- নখের পূর্ণতা: হাতের নখ এখন আঙ্গুলের সীমানায় পৌঁছায় এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে নখ এত বড় হয় যে তা হাতের বাইরে বেড়ে যায়।
৩৫তম সপ্তাহ
- শিশুর আকার: প্রায় ৪২ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ২.৪-২.৫ কেজি।
- চর্বির স্তর বাড়ছে: শিশুর দেহে চর্বির স্তর আরও বাড়ে, যা তার ত্বককে গোলাকার ও মসৃণ করে।
- পেশীর বৃদ্ধি: শিশুর পেশীগুলি শক্তিশালী হয় এবং তার নড়াচড়া আরও শক্তিশালী ও সুষম হয়।
- প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি: এখন মায়ের থেকে শিশুর দেহে আরও অ্যান্টিবডি চলে আসে, যা শিশুর দেহে প্রতিরোধক্ষমতা গঠনে সাহায্য করে।
৩৬তম সপ্তাহ
- শিশুর আকার: প্রায় ৪৩ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ২.৬-২.৭ কেজি।
- বড় শ্বাস প্রশ্বাসের প্রস্তুতি: এখন ফুসফুস প্রায় পূর্ণভাবে পরিণত হয়েছে এবং শিশুর জন্মের জন্য শ্বাস প্রশ্বাসে সক্ষম।
- নড়াচড়ার ঘনত্ব কম: শিশুর নড়াচড়া কমে যেতে পারে, কারণ এখন তার জন্য জরায়ুতে পর্যাপ্ত স্থান কমে এসেছে।
- অন্তঃস্রাবী তন্ত্রের প্রস্তুতি: অন্তঃস্রাবী তন্ত্রে পরিপূর্ণ প্রস্তুতি চলে, যা শিশুকে পরিপূর্ণ জন্মের জন্য প্রস্তুত করে।
৩৭তম সপ্তাহ: পূর্ণতার দিকে অগ্রসর
- শিশুর আকার ও ওজন: এ সময় শিশুর আকার প্রায় ৪৪ সেন্টিমিটার বা তারও বেশি হতে পারে এবং ওজন প্রায় ২.৯-৩ কেজি হয়।
- ফুসফুসের পূর্ণ বিকাশ: ফুসফুস এখন সম্পূর্ণ কার্যকর এবং বাইরে শ্বাস নেয়ার জন্য প্রস্তুত। ফুসফুসে উপস্থিত সুরফ্যাক্ট্যান্ট নামক একটি পদার্থ শ্বাস নেওয়ার সময় বাতাসকে সঠিকভাবে শোষণ করতে সাহায্য করবে, যা শিশুর শ্বাসপ্রশ্বাসকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক।
- ত্বকের শেষ পর্যায়ের পরিবর্তন: শিশুর ত্বক আরও মসৃণ হয় এবং এ সময় চর্বির স্তর আরও বাড়ে। এই স্তর শিশুকে জন্মের পর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।
- নাড়ির পরিবর্তন: এখন শিশুর নাড়ির সাথে মা এবং প্লাসেন্টার সংযোগ দৃঢ় থাকে, তবে জন্মের পর এটি কেটে আলাদা করা হবে।
- মস্তিষ্কের বৃদ্ধি: যদিও শিশুর মস্তিষ্কের বেশিরভাগ অংশ পূর্ণতা লাভ করেছে, তবে জন্মের পরেও এটি দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। ৩৭তম সপ্তাহে মস্তিষ্কের বৃদ্ধি এমনভাবে হয় যাতে শিশু জন্মের পর দ্রুত শিখতে ও বুঝতে সক্ষম হয়।
৩৮তম সপ্তাহ: পূর্ণ প্রস্তুতির লক্ষণ
- শিশুর আকার ও ওজন: শিশুর আকার প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৩-৩.১ কেজির মতো হয়।
- চুল ও ত্বকের স্তর: শিশুর শরীরে কিছু Lanugo (সূক্ষ্ম লোম) থাকে, যা গর্ভাবস্থার আগের পর্যায়ে তার ত্বককে রক্ষা করত। এই সময় বেশিরভাগ Lanugo ঝরে যায়, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি থেকে যেতে পারে, যা জন্মের পরে দ্রুত চলে যাবে।
- Vernix Caseosa: এই সাদা, পুরু মলমের মতো স্তর শিশুর ত্বককে আর্দ্র এবং নরম রাখতে সাহায্য করে এবং জন্মের সময় প্রসব পথ দিয়ে বের হতে সহায়ক হবে।
- হাড় ও মাংসপেশী: শিশুর দেহের হাড় ও মাংসপেশী শক্ত হয় এবং জন্মের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়। তবে মাথার খুলি একটু নরম থাকে যাতে এটি প্রসবের সময় প্রসারিত হয়ে জন্মনালী দিয়ে সহজে বের হতে পারে।
- অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত চর্বি জমা হওয়ায়, এখন সে জন্মের পর নিজের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হবে।
৩৯তম সপ্তাহ: প্রায় পরিপূর্ণতা
- শিশুর আকার ও ওজন: শিশুর আকার প্রায় ৪৬-৪৮ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ৩.২-৩.৩ কেজি পর্যন্ত হয়।
- মস্তিষ্কের কার্যকারিতা: শিশুর মস্তিষ্ক সম্পূর্ণভাবে বিকশিত হয় এবং এখন সে বাইরের জগতে শিখতে ও বুঝতে প্রস্তুত। এই সময়ে নিউরন সংযোগের সংখ্যা আরও বাড়ে, যা শিশুর মনোযোগ ও সংবেদনশীলতার উন্নতি করে।
- পরিপূর্ণ নড়াচড়া: গর্ভে এখন শিশুর স্থান সংকুলান না হওয়ায় তার বড় নড়াচড়া কমে যায়, তবে মাথা ঘোরা, হাত বা পা বাড়ানোর মতো ছোট ছোট নড়াচড়া চলতে থাকে।
- পাচনতন্ত্রের প্রস্তুতি: যদিও শিশুর পাচনতন্ত্র এখন প্রায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত, তবে এটি জন্মের পরেই সক্রিয়ভাবে কাজ করবে।
- বাইরের পৃথিবীর জন্য প্রস্তুতি: এ পর্যায়ে শিশু এখন পুরোপুরি বাইরের পৃথিবীর জন্য প্রস্তুত। তার ত্বকের রঙ সাদা বা গোলাপি হয়ে ওঠে, এবং চামড়া আরও শক্ত হয়।
৪০তম সপ্তাহ: শিশুর জন্মের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতি
- শিশুর আকার ও ওজন: শিশুর আকার প্রায় ৫০-৫১ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ৩.৫ কেজি বা তার বেশি হতে পারে।
- সবশেষে চর্বির স্তর: শিশুর শরীরে চর্বির শেষ স্তর জমা হয় যা তাকে শক্তিশালী ও সুস্থ রাখবে।
- তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও স্নায়ুর প্রস্তুতি: জন্মের পর শিশুর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য তার স্নায়ুতন্ত্র প্রস্তুত থাকে। চর্বি শিশুকে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে, আর স্নায়ুতন্ত্র তাকে বাইরের পরিস্থিতি বুঝতে সহায়ক হবে।
- প্লাসেন্টার ভূমিকা শেষ: প্লাসেন্টা এখন তার কার্যকারিতা সম্পন্ন করেছে এবং জন্মের সময় এটি মায়ের শরীর থেকে আলাদা হয়ে যাবে।
- প্রসবের লক্ষণ: এই সপ্তাহে মায়ের দেহে প্রসবের লক্ষণ, যেমন নিয়মিত সঙ্কোচন, পানি ভেঙে যাওয়া ইত্যাদি দেখা দিতে পারে, যা শিশুর জন্মের ইঙ্গিত দেয়।
গুরুত্বপূর্ণ: এই আর্টিকেলের শিশুদের ছবি babycenter.com ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা। এর কপিরাইট মালিক babycenter ওয়েবসাইট। তারা উল্লেখ করেছে প্রত্যেকটা ছবি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা ভেরিফাই করা
উপসংহার
দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের সময়ে শিশুর বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে শিশু তার শারীরিক এবং মানসিক উভয় দিক থেকেই বেড়ে ওঠে। গর্ভাবস্থার এই পর্যায়ে মায়ের শরীরেও বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটে, যার ফলে শিশুর জন্য নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়।
মায়ের পুষ্টি এবং স্বাস্থ্য এই সময়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শিশুর বিকাশের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষা মায়ের জন্য এবং শিশুর জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।