১ মাস বয়সের শিশুরা অত্যন্ত নাজুক এবং তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনও পুরোপুরি হয়ে ওঠেনি। এমন অবস্থায় ঠাণ্ডা বা সর্দির মতো সমস্যা দেখা দিলে, অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। কিন্তু চিন্তার কিছু নেই, বাড়িতেই সঠিক যত্ন নিয়ে শিশুর সর্দির সমস্যা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
১ মাসের শিশুর সর্দি হলে করণীয় সম্পর্কে নিচে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি। সুতরাং আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন…
শিশু সর্দি-কাশির লক্ষণ
যদি আপনার শিশুর মাঝে নিচের লক্ষণগুলি দেখেন করেন, তাহলে বুঝে নিবেন আপনার শিশুর সর্দি বা কাশি হয়েছে।
- শিশুর নাক দিয়ে পানি ঝরবে।
- শিশুর কাশি থাকবে
- শিশুর চোখ কিছুটা লাল হবে এবং পানি পড়তে পারে
- শিশুর অল্প অল্প জ্বরও থাকতে পারে।
১ মাসের শিশুর সর্দি হলে করণীয়: ৩টি ঘরোয়া উপায়ে যত্ন

১ মাসের শিশুর সর্দি হলে করণীয় সর্দির ফলে শিশু কি অবস্থা, তা পর্যবেক্ষণ করা। যদি সমস্যা গুরুতর না হয়, ঘরোয়া উপায়ে শিশুর সর্দির যত্ন নেওয়া সম্ভব। যদি সমস্যা গুরুতর হয়, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ওষুধ বা নাকের ড্রপ ব্যবহার করবেন না।
এই ৫টি ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করে শিশুর সর্দির সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। এছাড়াও এই উপায় গুলো ফলো করলে পরবর্তীতে শিশুর সর্দি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।
আরো পড়ুন:
১. শিশুকে উষ্ণ জামা-কাপড় পরান
যদি শীতের জন্য শিশুর সর্দি হয়, তখন তাকে সবসময় উষ্ণ রাখতে চেষ্টা করুন। বিশেষ করে রাতে তাকে আরামদায়ক এবং উষ্ণ জামা-কাপড় পরান। শিশুকে ভালোভাবে একটি কম্বল বা কাঁথা দিয়ে ঢেকে রাখুন, যাতে তার শরীরের তাপমাত্রা সঠিকভাবে বজায় থাকে।
এক মাস বয়সী শিশুরা খুব দ্রুত ঠাণ্ডা অনুভব করে এবং তাদের শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যেতে পারে। ঠাণ্ডা শরীর হলে সর্দির সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে এবং শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হতে পারে। উষ্ণ জামা-কাপড় ও কম্বল শিশুকে আরাম দেয় এবং তার সর্দি কমায়।
বেশি মোটা কাপড় ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ এতে শিশুর ত্বক ঘেমে যেতে পারে এবং আরও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। শিশুর নাক বন্ধ থাকলে পরিস্কার পাতলা কাপড় দিয়ে নাক পরিস্কার করুন।
২. শিশুর হাইড্রেশন নিশ্চিত করুন
এক মাস বয়সী শিশুর জন্য সবচেয়ে ভালো এবং নিরাপদ খাবার হল মায়ের দুধ। সর্দি হলে শিশুকে ঘনঘন মায়ের দুধ খাওয়ান। মায়ের দুধ শিশুর শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে এবং তার প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।
সর্দি হলে শিশুর শরীর থেকে পানি দ্রুত বের হয়ে যেতে পারে, তাই তাকে হাইড্রেট রাখা খুবই জরুরি। মায়ের দুধ সর্দির সাথে লড়াই করতে সাহায্য করে এবং দ্রুত সেরে উঠতে সহায়তা করে। যদি দেখেন যে, শিশুর নাক বন্ধ হয়ে গিয়ে দুধ পান করতে অসুবিধা হচ্ছে, তাহলে তার মাথা একটু উঁচু করে রাখুন। এতে শ্বাস নিতে সুবিধা হবে এবং সে সহজেই দুধ পান করতে পারবে।
৩. ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করুন
গরমের কারণে শিশুর ঠান্ডা লাগলে, রুমের তাপমাত্রা যাতে সঠিক থাকে, সেই খেয়াল রাখবেন। প্রয়োজনে ফ্যান, এসি বন্ধ বা চালু করা অথবা ফ্যান পাওয়ার কমানো-বাড়ানো উচিত।
আপনার ঘরের তাপমাত্রা যেন খুব বেশি ঠাণ্ডা বা খুব গরম না হয় তা নিশ্চিত করুন। শীতের সময় রুম হিটার ব্যবহার করতে পারেন, তবে নিশ্চিত হয়ে নিন যে ঘর খুব বেশি শুকনো না হয়ে যায়।
যদি সম্ভব হয়, ঘরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন। এটি ঘরের বাতাসকে আর্দ্র রাখে, যা শিশুর শ্বাস নিতে সহজ করে।
সতর্কতাসমূহ:
- ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ ব্যবহার করবেন না: শিশুর সর্দির জন্য ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বা নাকের ড্রপ ব্যবহার করবেন না। শিশুদের জন্য অনেক ধরনের ওষুধ বিপজ্জনক হতে পারে, তাই ডাক্তারের নির্দেশনাই অনুসরণ করা উচিত।
- পর্যবেক্ষণে রাখুন: যদি শিশুর সর্দি তিন দিনের বেশি সময় ধরে থাকে, তার সাথে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বা খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায়, তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
উপসংহার
১ মাসের শিশুর সর্দি হলে করণীয় মায়ের যত্ন ও ভালোবাসা। শিশুকে উষ্ণ রাখা, পর্যাপ্ত হাইড্রেশন নিশ্চিত করা, শিশুর নাক বন্ধ থাকলে পরিস্কার পাতলা কাপড় দিয়ে নাক পরিস্কার করুন এবং ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে সহজেই তার সর্দির সমস্যা কমানো সম্ভব।
তবে যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। শিশুর স্বাস্থ্য সবসময় প্রথমে আসা উচিত এবং কোনোকিছুর সাথে আপস করা উচিত নয়।