থার্মোমিটার ব্যবহারের নিয়ম: জ্বর মাপার সঠিক কৌশল শিখুন!

জ্বর মাপার জন্য ব্যবহৃত থার্মোমিটার দুটি জনপ্রিয় ধরন হলো অ্যানালগ এবং ডিজিটাল থার্মোমিটার। নিচে থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর মাপার পদ্ধতি ও সঠিক ব্যবহারের নিয়ম এবং বিভিন্ন তাপমাত্রার স্তর সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হল।

 তাপমাত্রা মাপার ক্ষেত্রেই নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন

  • খাবার বা পানীয় গ্রহণের পর তাপমাত্রা মাপতে চাইলে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন।
  • পারদ থার্মোমিটার ব্যবহারের সময় সাবধান থাকুন, পারদ বিষাক্ত হতে পারে।
  • ডিজিটাল থার্মোমিটার দ্রুত এবং নির্ভুল রিডিং দেয়, এটি ব্যবহারে সহজ।

1. তাপমাত্রা অনুযায়ী জ্বরের স্তর

থার্মোমিটার ব্যবহার করার আগে আমাদের শরীরে তাপমাত্রা সম্পর্কে ধারণা থাকা উচিত।

সেলসিয়াস স্কেলে:

  • ৩৬.৫°C থেকে ৩৭°C = স্বাভাবিক তাপমাত্রা।
  • ৩৮°C থেকে ৩৯°C = মৃদু জ্বর।
  • ৩৯°C এর উপরে = উচ্চ জ্বর।

ফারেনহাইট স্কেলে:

  • ৯৭.৭°F থেকে ৯৮.৬°F = স্বাভাবিক তাপমাত্রা।
  • ১০০.৪°F = মৃদু জ্বর।
  • ১০২°F এর উপরে = উচ্চ জ্বর।

2. অ্যানালগ (পারদ) থার্মোমিটার ব্যবহারের নিয়ম

অ্যানালগ (পারদ) থার্মোমিটার ব্যবহারের নিয়ম
অ্যানালগ (পারদ) থার্মোমিটার
এনালগ থার্মোমিটারে দুটি লাইন থাকে: সেলসিয়াস স্কেল (°C): ৩৬, ৩৮, ৪০, ৪২, ফারেনহাইট স্কেল (°F): ৩৫, ৩৭, ৩৯, ৪১

প্রথমে থার্মোমিটারটি হাতে নিন এবং ভালোভাবে ঝাঁকান যাতে পারদ ৩৫°C (৯৫°F)-এর নিচে চলে আসে। পারদযুক্ত অংশটি অ্যালকোহল-ভেজানো তুলা দিয়ে পরিষ্কার করে নিন।

১. মুখে মাপা (Oral Method)

  • থার্মোমিটারের পারদ অংশটি জিহ্বার নিচে রাখুন।
  • মুখ বন্ধ রাখুন এবং থার্মোমিটারটি ৩-৫ মিনিট ধরে রাখুন।
  • সময় শেষ হলে থার্মোমিটার বের করে পারদের স্তর দেখুন।

২. বগলে মাপা (Axillary Method)

  • থার্মোমিটারের পারদ অংশটি বগলের নিচে রাখুন এবং হাত চেপে রাখুন।
  • ৫-৭ মিনিট পরে থার্মোমিটার বের করুন এবং পারদ দেখে তাপমাত্রা নির্ধারণ করুন।

3. ডিজিটাল থার্মোমিটার ব্যবহারের নিয়ম

থার্মোমিটার ব্যবহারের নিয়ম
ডিডিজিটাল থার্মোমিটারে জ্বর মাপার নিয়ম: সরাসরি ফারেনহাইট তাপমাত্রা দেখা যায়

ডিজিটাল থার্মোমিটার ব্যবহারের নিয়ম হচ্ছে প্রথমে পাওয়ার বাটন চাপুন এবং স্ক্রিনে ০০.০ দেখা গেলে এটি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।

১. মুখে মাপা (Oral Method)

  • থার্মোমিটারের ধাতব অংশটি জিহ্বার নিচে রাখুন।
  • মুখ বন্ধ করে থার্মোমিটারটি ধরে রাখুন এবং ১০-৩০ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন, যতক্ষণ না এটি বিপ (beep) দেয়।
  • বিপ শুনলে থার্মোমিটার বের করে স্ক্রিনে তাপমাত্রা দেখুন।

২. বগলে মাপা (Axillary Method)

  • ধাতব অংশটি বগলে রাখুন এবং হাত চেপে ধরুন।
  • ৩০-৬০ সেকেন্ডের মধ্যে থার্মোমিটার বিপ শব্দ করবে। তখন স্ক্রিনে তাপমাত্রা দেখে নিন।

আরো পড়ুন: পেটের গ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায়

4.জ্বর মাপার থার্মোমিটারের তাপমাত্রা কোন স্কেলে মাপা হয়

জ্বর মাপার জন্য ব্যবহৃত থার্মোমিটারের তাপমাত্রা প্রধানত তিনটি স্কেলে মাপা হয়:

  1. সেলসিয়াস (Celsius): এই স্কেলে তাপমাত্রা সাধারণত সেলসিয়াসে মাপা হয়। শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা সাধারণত ৩৬.১°C থেকে ৩৭.২°C এর মধ্যে হয়। জ্বরের সংজ্ঞা সাধারণত ৩৮°C (১০০.৪°F) এর উপরে তাপমাত্রা থাকলে মনে করা হয়।
  2. ফারেনহাইট (Fahrenheit): যুক্তরাষ্ট্রে এই স্কেলটি অনেক ব্যবহৃত হয়। শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৭°F থেকে ৯৯°F এর মধ্যে থাকে। জ্বর হলে তাপমাত্রা ১০০.৪°F (৩৮°C) বা তার বেশি হতে পারে।

সাধারণত, সেলসিয়াস এবং ফারেনহাইট স্কেল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়, বিশেষ করে বাড়ির থার্মোমিটারে।

উপসংহার

জ্বর মাপার ক্ষেত্রে অ্যানালগ এবং ডিজিটাল থার্মোমিটার উভয়ই কার্যকর, তবে ডিজিটাল থার্মোমিটার দ্রুত ও নিরাপদ রিডিং প্রদান করে। সঠিকভাবে থার্মোমিটার ব্যবহার করার জন্য ধাপে ধাপে নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি, যাতে তাপমাত্রা নির্ভুলভাবে মাপা যায় এবং স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বুঝে নেওয়া যায়।

স্বাভাবিক তাপমাত্রা থেকে কোনো ব্যতিক্রম দেখা দিলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। থার্মোমিটার ব্যবহারের নিয়ম জানা শুধু নিজের নয়, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সুস্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

Scroll to Top