প্রথম সপ্তাহে গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ নির্দিষ্ট ভাবে দেখা যায় না। বেশিরভাগ মায়েরা গর্ভধারণের প্রথম মাসে বিষয়টি বুঝতে পারেন না। এতে বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। কারণ গর্ভধারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, যেখানে সঠিক তথ্য জানা অপরিহার্য। এতে একজন মায়ের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য গভীরভাবে জড়িত।
চলুন গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ, কীভাবে চিনবেন এবং কী করবেন এ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।
গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ কি করে বুঝবেন?

গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ (Pregnancy Symptoms) সাধারণত গর্ভধারণের প্রথম কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রকাশ পেতে শুরু করে। লক্ষণগুলো অনেকের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে। এখানে কিছু সাধারণ লক্ষণ যা গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেওয়া হলো:
গর্ভবতী হওয়ার সাধারণ লক্ষণসমূহ:
1. পিরিয়ড মিস করা: এটি গর্ভবতী হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ ও প্রাথমিক লক্ষণ। যেসব নারী নিয়মিত মাসিক চক্র পালন করেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি গর্ভধারণের প্রথম ইঙ্গিত হতে পারে [reference tooltip=”Mayo Clinic. “Pregnancy Symptoms: What Happens First.” 2023.”]।
2. বমি বমি ভাব ও বমি (Morning Sickness): হরমোন পরিবর্তনের কারণে গর্ভধারণের ৪-৬ সপ্তাহ পর থেকে অনেক নারীর বমি বা বমি বমি ভাব হতে পারে। এটি সাধারণত সকালে বেশি হয়, তবে সারাদিনের যে কোনো সময়ে ঘটতে পারে [reference tooltip=”American College of Obstetricians and Gynecologists. “Morning Sickness and Nausea.” 2021.”]।
3. স্তনের পরিবর্তন: গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে স্তনের আকার বৃদ্ধি, কোমলতা, বা স্তনের চারপাশে গাঢ় হওয়া দেখা যায়। এটি হরমোনের প্রভাবে ঘটে[reference tooltip=”National Institutes of Health (NIH). “Early Signs of Pregnancy.” 2020.”]।
4. বারবার প্রস্রাবের চাপ: প্রোজেস্টেরন হরমোন এবং জরায়ুর আকার বৃদ্ধি প্রস্রাবের তাগিদ বাড়িয়ে দিতে পারে[reference tooltip=”Cleveland Clinic. “Frequent Urination During Pregnancy.” 2023.”]।
5. অবসাদ এবং ক্লান্তি: শরীরে প্রোজেস্টেরন বৃদ্ধির কারণে গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে অনেক নারী ক্লান্তি অনুভব করেন।
6. খাবারে অরুচি বা আকর্ষণ: নির্দিষ্ট খাবারের প্রতি আকর্ষণ বা বিরক্তি দেখা দিতে পারে। এ পরিবর্তন হরমোনের কারণে হয় [reference tooltip=”Mayo Clinic. “Pregnancy Symptoms: What Happens First.” 2023.”]।
7. মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া: গর্ভধারণের প্রথম দিকে রক্তচাপ কমে যাওয়া বা রক্ত প্রবাহের পরিবর্তনের কারণে মাথা ঘোরা বা ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। এটি বিশেষত তখন ঘটে যখন নারীর শরীরে রক্তপ্রবাহ দ্রুত পরিবর্তিত হয় [reference tooltip=”American College of Obstetricians and Gynecologists (ACOG). “Hormonal Changes and Pregnancy.” 2021.”]।
8. জরায়ুর হালকা ব্যথা বা ক্র্যাম্প: জরায়ুর পরিবর্তন এবং প্রসারিত হওয়ার ফলে হালকা ক্র্যাম্প বা ব্যথা হতে পারে। এটি প্রায়শই পিরিয়ডের সময়কালের ব্যথার মতো অনুভূত হয়, তবে গর্ভাবস্থার একটি স্বাভাবিক লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত [reference tooltip=”Mayo Clinic. “Pregnancy Symptoms: What Happens First.” 2023.”]।
9. হালকা রক্তক্ষরণ (Implantation Bleeding): গর্ভধারণের ৬-১২ দিনের মধ্যে গর্ভনালীতে ভ্রূণের স্থাপনের কারণে অল্প রক্তপাত হতে পারে। এটি সাধারণ পিরিয়ডের চেয়ে হালকা এবং কম সময়ের জন্য স্থায়ী হয় [reference tooltip=”Cleveland Clinic. “Early Pregnancy Symptoms.” 2023.”]।
10. রুচি এবং ঘ্রাণের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি: গর্ভধারণের ফলে হরমোন বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘ্রাণ এবং স্বাদের প্রতি সংবেদনশীলতা বাড়তে পারে। কোনো খাবার বা গন্ধের প্রতি আকর্ষণ বা বিরক্তি সাধারণ বিষয় [reference tooltip=”National Institutes of Health (NIH). “Early Signs of Pregnancy.” 2020.”]।
11. পেট ফুলে যাওয়া বা গ্যাস: প্রোজেস্টেরন হরমোন বৃদ্ধির কারণে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে পেটে ফুলে যাওয়া বা গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। এটি প্রায়ই গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে ঘটে [reference tooltip=”American College of Obstetricians and Gynecologists. “Morning Sickness and Nausea.” 2021.”]।
12. ব্রণের প্রবণতা: গর্ভকালীন হরমোন বৃদ্ধির কারণে ত্বকের তৈলাক্ততা বাড়ে, যা কিছু নারীর ক্ষেত্রে ব্রণের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে [reference tooltip=”Mayo Clinic. “Pregnancy Symptoms: What Happens First.” 2023.”]।
13, গরম অনুভব করা: গর্ভাবস্থার কারণে শরীরের বিপাক হার বৃদ্ধি পায়, যা অনেক নারীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গরম অনুভব করার কারণ হতে পারে [reference tooltip=”American College of Obstetricians and Gynecologists (ACOG). “Hormonal Changes and Pregnancy.” 2021.”]।
14. কনস্টিপেশন (কোষ্ঠকাঠিন্য): প্রোজেস্টেরন হরমোন বৃদ্ধির কারণে অন্ত্রের গতিশীলতা ধীর হয়ে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে [reference tooltip=”Cleveland Clinic. “Frequent Urination During Pregnancy.” 2023.”]।
উল্লেখিত গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণগুলো সাধারণ লক্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে এসব লক্ষণ থাকলেই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় যে আপনি গর্ভবতী। কারণ, কিছু লক্ষণ যেমন স্তনে ব্যথা, পেট ফাঁপা, এবং কোনো খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা, মাসিকের আগে আগে দেখা দিতে পারে। আবার অনেকের ক্ষেত্রে গর্ভবতী হওয়ার পর তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না, ফলে গর্ভধারণের বিষয়টি বুঝতে দেরি হয়ে যায়।
আপনি গর্ভবতী কিনা তা জানার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হল প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা। আপনি প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটের মাধ্যমে ঘরে বসেই সহজে পরীক্ষা করতে পারেন। এই কিটগুলো আপনি সাধারণ ওষুধের দোকান বা ফার্মেসি থেকে কিনতে পারবেন।
গুরুত্বপূর্ণ: গর্ভাবস্থার প্রত্যেকটি পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে গর্ভাবস্থা ক্যালকুলেটর টুল বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারেন
মিলনের কতদিন পর প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে হয়?
যদি আপনার কোনো মাসের পিরিয়ড মিস হয় এবং আপনি পূর্বে কোনো অনিরাপদ অর্থাৎ জন্মনিরোধক (কনডম, পিল বা বড়ি, ইনজেকশন) ব্যবহার না করে সহবাস করেছেন, তাহলে নির্দিষ্ট তারিখে পিরিয়ড শুরু না হলে, আপনি সহজেই প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে পারেন।
যদি পিরিয়ড শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখটি জানা না থাকে, তাহলে অনিরাপদ সহবাসের কমপক্ষে ২১ দিন পর টেস্ট করেও আপনি জানতে পারবেন যে আপনি গর্ভধারণ করেছেন কি না। বর্তমানে উন্নত মানের অনেক প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট সাধারণ ওষুধের দোকান বা ফার্মেসিতে পাওয়া যায়। যার মাধ্যমে গর্ভধারণের ৯ দিন পরেই আপনি গর্ভবতী হয়েছেন কি না তা নির্ধারণ করা সম্ভব।