দাঁতের ব্যথা যে কতটা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে, সেটা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই জানেন। বিশেষ করে যখন দাঁতে পোকা হয়, তখন এই ব্যথা আরও বেশি তীব্র হয়। দাঁতের পোকা মানে দাঁতে ক্ষয় সৃষ্টি হওয়া, এবং এটির প্রভাবে দাঁতে ব্যথা, সংক্রমণ এমনকি দাঁত হারানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়।
দাঁতের পোকা এবং ব্যথা কমানোর জন্য কিছু কার্যকর ঘরোয়া উপায় আছে, যা খুব সহজে ঘরেই করা সম্ভব। পোকা দাঁতের ব্যথা কমানোর উপায় গুলো নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
পোকা দাঁতের ব্যথা কমানোর উপায়

ঘরোয়া পদ্ধতিতে দাঁতের ব্যথা কমানোর উপায় গুলো নিয়ে নিচে আলোচনা করেছি। সুতরাং নিচের উপায় গুলো মনে সহকারে পড়ুন এবং বাড়িতে এগুলো এপ্লাই করুন। অবশ্যই এগুলো কাজ করবে
সতর্কতা: দাঁতের ব্যথা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা প্রতিদিন বাড়তে থাকে, তাহলে অবশ্যই একজন ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
১. লবণ পানির গার্গল
লবণ পানি দাঁতের ব্যথা কমানোর একটি অন্যতম পুরনো ও কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি।
কিভাবে করবেন:
- এক গ্লাস গরম পানিতে আধা চা চামচ লবণ মেশান।
- এরপর এই লবণ পানি দিয়ে ভালোভাবে গার্গল করুন।
- দিনে অন্তত ২-৩ বার লবণ পানি দিয়ে কুলকুচি করতে পারেন।
লবণ একটি প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে এবং এটি দাঁতের সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া, লবণ পানি দাঁতের চারপাশের মাড়িতে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে, যা দাঁতের ব্যথা হ্রাস করতে কার্যকর।
২. রসুনের পেস্ট
রসুনের মধ্যে অ্যালিসিন নামক এক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে, যা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে সাহায্য করে। এটি ব্যথা কমানোর পাশাপাশি সংক্রমণও হ্রাস করতে পারে।
কিভাবে করবেন:
- এক কোয়া রসুন নিয়ে এটি ভালোভাবে থেঁতো করে পেস্ট তৈরি করুন।
- এই পেস্টটি আক্রান্ত দাঁতের ওপরে লাগিয়ে রাখুন।
- কয়েক মিনিট রেখে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
রসুনের মধ্যে থাকা অ্যালিসিন ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে সক্ষম। এটি দাঁতের পোকা দূর করার পাশাপাশি ব্যথা হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
৩. লবঙ্গ
লবঙ্গও দাঁতের ব্যথা কমানোর জন্য খুবই উপকারী। এতে থাকা ইউজেনল তেল ব্যথা কমায় এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
কিভাবে করবেন:
- একটি লবঙ্গ নিয়ে এটি দাঁতের উপর সরাসরি রাখতে পারেন অথবা কিছুটা চিবিয়ে লবঙ্গের রস বের করে নিতে পারেন।
- এছাড়া, লবঙ্গ তেল ব্যবহার করে তুলোর সাহায্যে আক্রান্ত দাঁতে লাগানো যেতে পারে।
লবঙ্গে থাকা ইউজেনল প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক এবং এনালজেসিক হিসেবে কাজ করে, যা ব্যথা হ্রাস এবং সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করে।
৪. আলু
আলুর মধ্যে প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা দাঁতের ব্যথা কমাতে কার্যকর।
কিভাবে করবেন:
- একটি কাঁচা আলু পরিষ্কার করে ছোট টুকরো করে নিন।
- এরপর এই টুকরোগুলো দাঁতে ধরে রাখুন বা আক্রান্ত স্থানে হালকা চাপ দিয়ে রাখুন।
- কিছুক্ষণ পর এটি মুখ থেকে বের করে ফেলুন।
আলু মাড়ি থেকে অতিরিক্ত আর্দ্রতা শুষে নিয়ে প্রদাহ কমায়, ফলে দাঁতের ব্যথা কমে আসে। এটি দাঁতে শীতল অনুভূতি সৃষ্টি করে এবং তাৎক্ষণিক আরাম দেয়।
৫. ফিটকিরির কুলকুচি
ফিটকিরি দিয়ে কুলকুচি করলে দাঁতের পোকা এবং ব্যথা কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
কিভাবে করবেন:
- এক গ্লাস গরম পানিতে সামান্য পরিমাণ ফিটকিরি মিশিয়ে নিন।
- এরপর এই পানি দিয়ে ভালোভাবে কুলকুচি করুন।
- দিনে অন্তত ২ বার এই পদ্ধতিটি প্রয়োগ করতে পারেন।
ফিটকিরির মধ্যে রয়েছে প্রদাহবিরোধী এবং জীবাণুনাশক গুণাবলী, যা দাঁতের পোকা সৃষ্টিকারী জীবাণু দূর করতে সাহায্য করে এবং দাঁতের ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে।
অতিরিক্ত টিপস:
- তুলা ও গরম পানি: তুলার টুকরো গরম পানিতে ভিজিয়ে দাঁতের উপর ধরলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়।
- ঠাণ্ডা প্যাক: বরফের প্যাক দিয়ে ঠাণ্ডা সেঁক দিলে ব্যথা কিছুটা কমে আসতে পারে।
- স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার কমিয়ে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনলে দাঁতে পোকা হওয়ার ঝুঁকি কমে।
উপসংহার
দাঁতের ব্যথা এবং পোকা দাঁতের সমস্যায় ঘরোয়া উপায়গুলো প্রাথমিকভাবে অনেক আরাম দেয়। লবণ পানি, রসুন, লবঙ্গ, আলু এবং ফিটকিরির মতো প্রাকৃতিক উপাদানগুলো ব্যথা কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
তবে এগুলো শুধু প্রাথমিক সহায়তা দিতে পারে; দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা বা সংক্রমণ হলে অবশ্যই ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিতে হবে। সময়মতো দাঁতের যত্ন না নিলে পোকা থেকে দাঁতে আরও বড় ক্ষতি হতে পারে, তাই নিয়মিত দাঁতের যত্ন নেওয়া এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
দাঁতে পোকা হলে লবণ পানি কতবার ব্যবহার করা উচিত?
দিনে অন্তত ২-৩ বার লবণ পানি দিয়ে কুলকুচি করলে সংক্রমণ কমে এবং ব্যথা কমে যেতে সাহায্য করে।
দাঁত ব্যথা করলে কী খেতে হবে?
দাঁতের ব্যথা হলে নরম, ঠাণ্ডা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া ভালো, কারণ এতে দাঁতের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে না এবং ব্যথা কিছুটা কমে। মুরগির স্যুপ, সবজির ঝোল, দই, নরম ফল (যেমন কলা), এবং ওটস জাতীয় খাবার খাওয়া যেতে পারে। ঠাণ্ডা দই বা আইসক্রিমও কিছুটা আরাম দেয়, তবে অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়ানো ভালো, কারণ মিষ্টি দাঁতের সংক্রমণ বাড়াতে পারে।
দাঁতের যন্ত্রণা কমানোর ঘরোয়া উপায় কী?
দাঁতের যন্ত্রণা কমানোর জন্য কিছু কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি আছে। লবণ পানি দিয়ে গার্গল করলে জীবাণু ধ্বংস হয় এবং প্রদাহ কমে। এক কোয়া রসুন থেঁতো করে আক্রান্ত দাঁতে লাগালে ব্যথা হ্রাস পায়। লবঙ্গ দাঁতে রাখলে এতে থাকা ইউজেনল তেল ব্যথা কমায়। কাঁচা আলু ছোট টুকরো করে দাঁতে ধরলে আরাম পাওয়া যায়, কারণ এটি প্রদাহ কমায়। এছাড়া ফিটকিরি পানিতে মিশিয়ে কুলকুচি করলে সংক্রমণ কমে এবং ব্যথা হ্রাস হয়।
দাঁত ব্যথার জন্য কোন ট্যাবলেট ব্যবহার করা যায়?
দাঁতের ব্যথা কমানোর জন্য সাধারণত প্যারাসিটামল, আইবুপ্রোফেন, বা ন্যাপ্রোক্সেন ব্যবহৃত হয়। তবে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা থাকলে অবশ্যই ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিতে হবে এবং অতিরিক্ত ট্যাবলেট সেবন এড়ানো উচিত, কারণ এটি শরীরের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
আলু দিয়ে দাঁতের ব্যথা কমানো যায় কীভাবে?
আলুর টুকরো দাঁতের ওপর ধরলে বা চেপে ধরলে এটি প্রদাহ কমাতে ও দাঁতের ব্যথা প্রশমিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
রসুন কীভাবে দাঁতের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে?
রসুনে অ্যালিসিন নামক অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান রয়েছে, যা দাঁতের পোকা এবং সংক্রমণ কমাতে সহায়ক। এটি ব্যথা কমাতে এবং জীবাণু ধ্বংস করতে কার্যকর।