ভিটামিন ডি যুক্ত খাবারের তালিকা: ২০টি সহজলভ্য খাবারের নাম

ভিটামিন ডি আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। এটি ক্যালসিয়ামের শোষণ, হাড়ের গঠন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, এবং মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে সহায়ক। যদিও সারা বিশ্বেই এই ভিটামিনটির প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশে এর ঘাটতি বেশ লক্ষণীয়। 

সঠিক পরিমাণে ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে আমরা অনেক রোগ থেকে দূরে থাকতে পারি। চলুন, জেনে নেই ভিটামিন ডি কেন দরকার, ভিটামিন ডি যুক্ত খাবারের তালিকা।

ভিটামিন ডি কেন প্রয়োজন?

  • ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়ক: ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সহায়তা করে, যা আমাদের হাড় শক্তিশালী রাখে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: ভিটামিন ডি শরীরের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে, যা বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
  • মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি বিষণ্ণতা (ডিপ্রেশন) দূর করতে সহায়ক।
  • ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগ থেকে সুরক্ষা: এটি ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

ভিটামিন ডি যুক্ত খাবারের তালিকা

ভিটামিন ডি যুক্ত খাবারের তালিকা
ভিটামিন ডি যুক্ত খাবারের তালিকা

বাংলাদেশে কিছু প্রচলিত খাবারে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়, তবে যথেষ্ট পরিমাণে নয়। নিচে কিছু জনপ্রিয় ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার তুলে ধরা হলো:

নিচে বাংলাদেশের সহজলভ্য এবং প্রচুর ভিটামিন ডি পাওয়া যায় এমন ২০টি ভিটামিন ডি যুক্ত খাবারের তালিকা চাট তৈরি করা হলো। এতে প্রতিটি খাবারের উৎস ও ভিটামিন ডি এর পরিমাণের তুলনামূলক ধারণা প্রদান করা হয়েছে।

ক্রমিক নম্বরখাবারের নামভিটামিন ডি এর পরিমাণ (প্রতিটি পরিমাপের জন্য)
ইলিশ মাছপ্রতি ১০০ গ্রামে ১৬২৮ IU
রুই মাছপ্রতি ১০০ গ্রামে ৬৮ IU
কাতলা মাছপ্রতি ১০০ গ্রামে ৬৫ IU
মাগুর মাছপ্রতি ১০০ গ্রামে ৬০ IU
ডিমের কুসুমপ্রতি ডিমে ৪০ IU
গাভীর দুধপ্রতি গ্লাসে ৪০-৫০ IU
মাশরুমপ্রতি ১০০ গ্রামে ৩৬ IU
কড লিভার তেলপ্রতি চামচে ৪৫০ IU
চিংড়ি মাছপ্রতি ১০০ গ্রামে ১৫২ IU
১০পাকা কলাপ্রতি ১০০ গ্রামে ৩ IU
১১বোয়াল মাছপ্রতি চামচে ১০ IU
১২ছোলাপ্রতি ১০০ গ্রামে ৪ IU
১৩গাভীর ঘিপ্রতি ১০ গ্রামে ৩ IU
১৪লাল শাকপ্রতি ১০০ গ্রামে ৫ IU
১৫পনিরপ্রতি ১০০ গ্রামে ২৪ IU
১৬দইপ্রতি ১০০ গ্রামে ১০ IU
১৭সরিষা শাকপ্রতি ১০০ গ্রামে ৩ IU
১৮মলা মাছপ্রতি ১০০ গ্রামে ৫ IU
১৯চালকুমড়াপ্রতি ১০০ গ্রামে ২ IU
২০পেয়ারাপ্রতি ১০০ গ্রামে ২ IU
এই খাবারগুলোতে ভিটামিন ডি-এর পরিমাণ সীমিত হলেও, নিয়মিতভাবে এগুলো খাদ্যতালিকায় রাখলে এবং সাথে প্রাকৃতিক সূর্যের আলোতে সময় কাটালে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি কিছুটা পূরণ হতে পারে।

বিঃদ্রঃ ভিটামিন ডি এর IU (International Units) প্রতি পরিমাপ ভিন্ন হতে পারে।

সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ডি

সূর্যের আলো ভিটামিন ডি উৎপাদনের প্রাকৃতিক উপায়। আমাদের ত্বক সূর্যের আলোতে গিয়ে ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে। তবে এর জন্য কিছু নির্দেশিকা অনুসরণ করা দরকার:

  • কখন রোদে যাবেন: সকাল ৯টা থেকে ১১টা এবং বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত সময় রোদে থাকার ভালো সময়।
  • কতক্ষণ থাকা প্রয়োজন: ১০-২০ মিনিট রোদে ত্বকের সংস্পর্শে থাকলেই প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি তৈরি হতে পারে।
  • পোশাক এবং স্কিনকেয়ার পণ্য: সানস্ক্রিন ব্যবহার না করেই রোদে বসা উচিত, যাতে ত্বক সরাসরি সূর্যের আলো পায়। তবে বেশি সময় রোদে থাকলে সানস্ক্রিন লাগানো প্রয়োজন।

ভিটামিন ডি এর অতিরিক্ত গ্রহণের ঝুঁকি

যদিও ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ, অতিরিক্ত গ্রহণের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে:

  • ক্যালসিয়াম বেশি জমা হওয়া: অতিরিক্ত ভিটামিন ডি রক্তে ক্যালসিয়াম বাড়ায়, যা কিডনি ও হার্টের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
  • পেটের সমস্যা: অতিরিক্ত ভিটামিন ডি পেট ব্যথা ও ডায়রিয়া হতে পারে।
  • অনিদ্রা ও মানসিক চাপ: দীর্ঘস্থায়ী অতিরিক্ত ভিটামিন ডি ঘুমের সমস্যা ও মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

উপসংহার

ভিটামিন ডি আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি এবং এটি বিভিন্ন শারীরিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে। বাংলাদেশে ভিটামিন ডি যুক্ত খাবারের সরবরাহ সীমিত হওয়ায় এবং জীবনযাত্রার কারণে অনেকে এর ঘাটতিতে ভুগছেন। 

ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার সঠিক পরিমাণে গ্রহণ এবং রোদে থাকার মাধ্যমে আমরা ভিটামিন ডি এর ঘাটতি কমিয়ে সুস্থ জীবনযাপন করতে পারি।

Scroll to Top